নিউজ টপ লাইন

পানিই কষ্ট দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের!

কখনো সাগরের পানি, কখনো বৃষ্টির পানি সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। বৈরী আবহাওয়ার কারণেই এ পানি যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের জীবনেচট্টগ্রাম অফিস উত্তাল সাগরের সঙ্গে যুদ্ধ করে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা। সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। আবার যারা আশ্রয় পাচ্ছে বৃষ্টির পানি তাদের জীবনে সৃষ্টি করছে নতুন বিপত্তি। বৃষ্টির ঢলে তাদের ঝুপড়িঘর ভেসে যাচ্ছে। মাথার ওপর ছাউনি না থাকায় বৃষ্টির পানিতে দিনরাত ভিজছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। বৃষ্টিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু-বুড়ো সবাই।
পাহাড়ে আশ্রয় নেয়ায় বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টির পানির কারণে শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।

এভাবেই কখনো সাগরের পানি, কখনো বৃষ্টির পানি সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এই পানি যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের জীবনে।
টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ঘুরে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত হাজার হাজার রোহিঙ্গার মাথায় ছাউনি জুটেনি। ফলে বৃষ্টির পানিতে দিনরাত ভিজছে তারা। আবার যাদের মাথায় ছাউনি জুটেছে তাদের ঝুপড়িঘর ভেসে গেছে বৃষ্টির পানিতে। বৃষ্টির পানির ঢলে বালুখালী সংলগ্ন নিচু এলাকায় প্রায় দুই হাজার ঝুপড়ি ভেসে গেছে। ফলে এসব ঝুপরিতে থাকা রোহিঙ্গারা আশ্রয়ের জন্য এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করছে।
এছাড়া নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। উত্তাল স্রোতের সঙ্গে যুদ্ধ করে মৃত্যুকে হাতে নিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে। যদিও এর আগে পানিতে নৌকাডুবির কারণে শতাধিক রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। তবু থেমে নেই রোহিঙ্গাদের স্রোত। পানিই কষ্ট দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের
বালুখালীর দক্ষিণ পাশের পাহাড়ে ৫ সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন আমেনা খাতুন। বৃষ্টিতে ভিজে মাথা গোঁজার জায়গা পেতে ছুটাছুটি করছেন। কিন্তু কোথাও ঠাঁই হয়নি। অগত্যা ভিজতে থাকেন বৃষ্টিতে।
হোয়াইক্যং এর রইখ্যং ক্যাম্পে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মলমূত্র একাকার হয়ে গড়িয়ে পড়ছে নালায়। সেই নালায় কাপড়-থালা-বাসন ধুয়ে কলসিতে ভরে পানি নিয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা নারীরা।
সাবিকুর নাহার নামে এক রোহিঙ্গা নারী জানান, কোনো উপায় না থাকায় এসব ময়লা পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে মলমূত্রের পানিও গড়িয়ে আসে এই নালায়।
পালংখালী ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার নুরুল আবছার চৌধুরী জানান, প্রত্যেক বস্তিতে মানুষ গিজগিজ করছে। একটি ১০ বর্গফুটের জায়গায় ১০ থেকে ১৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ঘুমানোর জায়গাটুকুও নেই। বসে বসে দিনরাত পার করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় বৃষ্টি হলে যাদের মাথায় ছাউনি নেই তাদের কোন ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় দেয়ার সুযোগ হয় না। বৃষ্টি হলে রোহিঙ্গাদের খুবই দুর্ভোগ হচ্ছে। পানি যেন তাদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
বালুখালীর রোহিঙ্গা বস্তির মাঝি (দলনেতা) নুরুল আলম সিদ্দিকি লালু জানান, অধিকাংশ রোহিঙ্গা বস্তিতে খাবার পানি নেই। শুধু খাবার পানি নয় ব্যবহারের পানিও মিলছে না। অনেকে নালার পানি ব্যবহার করছে। পানির কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। পানির সমস্যাই রোহিঙ্গাদের কাছে বড় সমস্যা।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top