নিউজ টপ লাইন

সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর এখন চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্যঃ-১ দুনীর্তি, ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাস্টমস্ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন শত কোটি টাকার মালিক !

সিলেট থেকে ফিরে সফিউর রহমান সফিকঃ
সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর বর্তমানে চোরাচালানীর স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন  সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর দিয়ে পাচার হচ্ছে অবৈধ স্বর্ণ, সিগারেট সহ আমদানি নিষিদ্ধ বিভিন্ন পণ্য। যার প্রেক্ষিতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। চোরাচালানিদের উক্ত বিমানবন্দর দিয়ে নিরাপদে স্বর্ণসহ বিভিন্ন পণ্য পাচারে সিভিলএভিয়েশন ও কাস্টমসের গোটা কয়েক কর্মকতা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চোরাকারবারিদের বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন পণ্য পাচারের সহায়তায় করছে বলে ওসমানি বিমানবন্দর কাস্টমসের সহকারি এক কমিশনারসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।  প্রতিদিনই উক্ত বিমানবন্দর দিয়ে দেশে-বিদেশে পাচার হচ্ছে ও দেশের অভ্যন্তরে ঢুকছে অবৈধ স্বর্ণসহ বিভিন্ন আমদানী নিষিদ্ধ পন্য। অতঃপর অবৈধ সোনার বড়বড় চালান বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত বর্ডার   দিয়ে কাস্টম কর্মকর্তাদের সহায়তায় পার্শবর্তী দেশে পাচার হচ্ছে অনুসন্ধানে বিভিন্ন সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে সিলেট ওসমানি বিমানবন্দর স্বর্ণ চোরাচালানিদের নিরাপদ রুট!
বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাস্টমসের সহকারি কমিশনার সাজ্জাদ হোসেনও তার কয়েকজন সহকর্মী স্বর্ণ চোরাকারবারীর সাথে আতাত করে অবৈধ স্বর্ণসহ বিভিন্ন  পণ্য পাচারও খালাসের সহায়তা করে অবৈধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে বিমানবন্দর ও কার্গো থেকে দুনীর্তির করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
শুধু তাই নয়, সাজ্জাদের মত দুনীর্তিবাজ কাস্টমসের কর্মকর্তার নিয়ম বহিভূত ভাবে দীর্ঘ সময় একই জায়গায় কর্মরত রয়েছেন ডিপার্টমেন্টের দুনীর্তিবাজ কিছু কর্মকর্তার সহায়তায়।
সরকার বিমানবন্দর ও কার্গোগুলোতে ভ্যাট, ট্যাক্স ও শুল্ক ফাকি রোধে এবং অবৈধ স্বর্ণ  নিষিদ্ধ মালামাল পাচার ও খালাস সহ দুনীর্তি ঠেকাতে কাষ্টমস,ভ্যাট ও শুল্ক কর্মকর্তাদের সল্প সময়ের জন্য বদলি করেন। কিন্তু কাস্টমসের সহকারি কমিশনার সাজ্জাদ হোসেনের ক্ষেত্রে ঘটেছে  এর ব্যতিক্রম, তিনি প্রায় ২বৎসর যাবৎ কর্মরত আছেন সিলেট ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর ও কার্গোতে। উক্ত সহকারি কমিশনার সিলেট বিমানবন্দর সহ বিভিন্ন জায়গায় কাষ্টমসে কর্মরত থেকে দুনীর্তি, অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সাজ্জাদ হোসেন আজ কয়েক শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক। নামে বে-নামে রয়েছে তার কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স, একাধিক বাড়ী, ফ্ল্যাট, দোকান, গাড়ীসহ শত কোটি টাকার ব্যবসাও সম্পত্তি। শুশুর বাড়ীর লোকজন এবং পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ট আত্মীয় স্বজনদের নামে এই সম্পত্তি ক্রয় করেছেন বলে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রে একথা জানা গেছে। রাজধানীর,গুলশান-বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডী, মোঃপুর, বাড়ীধারা সহ বিভিন্ন এলাকায় তার বেশ কয়েকটি  ফ্লাট ও বাড়ী রয়েছে। শুধু তাই নয় বিদেশে ও তিনি অবৈধভাবে অর্থ পাচার করে বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত বলে একাধিক সূত্র এতথ্য জানান।
সূত্র আরো জানা গেছে, ঢাকা বিমানবন্দর দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানী ও আমদানী নিষিদ্ধ পণ্যসহ চোরাচালানী বন্ধে সরকার কড়া নিরাপত্তা অবলম্বন করছে এর ফলে সৎ অফিসারদের কড়া নজরদারীর কারণে এযাবৎ কালে চোরাকারবারীদের বড় বড় সোনার চালানসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য আটক হয় হযরত শাহ্জালাল (রঃ) আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে। এরপর থেকে চোরাকারবারীরা তাদের রুট পরিবর্তন করে ওসমানী বিমানবন্দরকে বেছে নেয় তাদের অবৈধ ব্যবসা চালাতে। এরপর থেকে উক্ত কাস্টমসের সহাকারী কমিশনারের সহায়তায় নিরাপদে তাদের অবৈধ পন্য খালাশ করছে প্রতিনিয়ত মোটা অংকের টাকা লেনদেনের মাধ্যমে। সিলেট ওসমানি আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর ও কার্গো সাজ্জাদ হোসেনের মত গোটা কয়েক দুনীর্তিবাজ কর্মকর্তার কাছে জিম্মি হয়ে আছেন সিলেটের সৎ নিষ্ঠাবান বর্তমান কাস্টমস কমিশনার। গত ২৩/০৭/২০১৭ইং এবং ০৩/০৮/২০১৭ইং উক্ত দুনীর্তিবাজ সাজ্জাদ হোসেন ও তার কয়েকজন সহকর্মীর সহায়তায় বড় বড় ৩৩টি কাটুন ও ২৮টি বিশাল আকারের অবৈধ পণ্য বেনসন ও হেজাজ সিগারেটের কাটুন চোরাকারবারীরা গোপন লেনদেন এর মাধ্যমে খালাস করে বলে সূত্রে জানা গেছে। কাস্টমসের সহকারি কমিশনারের সাথে সহকারির রেভিনিউ অফিসার ভূইঁয়া ও মাইনুল ইসলাম এইসব অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থেকে ভ্যাট,ট্যাক্স ও শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারিদের অবৈধ স্বর্ণসহ বিভিন্ন পণ্য খালাসে সহায়তা করছে দীর্ঘদিন থেকে।
এদিকে অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে। এনবিআর এর জনৈক এক সদস্য ও শুল্ক গোয়েন্দা শাখার বেল্লাল নামক এক ব্যক্তির নামের দোহাই দিয়ে ডিপার্টমেন্টের লোকদের হয়রানীসহ তার কথামত অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করে বলে এমন অভিযোগ উক্ত সহকারি কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এদিকে কাস্টমসের সহকারি কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন এর দুনীর্তিসহ নানান অপকর্মের বিষয়ে সাজ্জাজের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে, সাজ্জাদ হোসেন বিভিন্নভাবে তার বিরুদ্ধে উঠা দুনীর্তির কথা অস্বীকার করে এড়িয়ে যান। দীর্ঘ সময় একই জায়গায় কোন জাদুর কাঠিতে কর্মরত আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন লোকবলের  সংকটের কারণে দীর্ঘদিন এখানে আছেন।
অন্য একটি সূত্র জানান সাজ্জাদ হোসেনের অবৈধ টাকা তার গাড়ী চালক কবির নামক ব্যক্তির ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় টাকা লেনদেন করে।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top