নিউজ টপ লাইন
মাদকে ভাসছে খিলগাঁও রামপুরা থানা

মাদকে ভাসছে খিলগাঁও রামপুরা থানা

আব্দুল আজিজঃ
কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে মাদকের পাইকারী চালান নিয়ে চোকেনা করছে সোর্সরা  মাদককে ঘিরেই নানা বিরোধ হচ্ছে, চলছে খুনোখুনি সি ব্লকে সিসি ক্যামেরা ও শান্তিপুরে এলার্ম বসিয়েই চলছে মাদক কেনাবেচা থানার বিশেষ সিন্ডিকেট চালায় এ মাদক বাজার সাফকথা প্রতিবেদন রাজধানীর খিলগাঁও থানা ঘেঁষেই রাজিবের মাদক স্পট। বারবার গ্রেফতার করেও থামানো যাচ্ছে না তার মাদক বাজারটি। সেখানে রাত দিন চলছে ইয়াবা, ফেন্সিডিল আর গাঁজা বেচাকেনা। থানা ভবনে দাঁড়িয়েই রাজিবের স্পটে মাদক কেনাবেচা ও নেশার দৃশ্যাবলি দেখতে পান পুলিশ কর্মকর্তারা। কিন্তু এসি, ওসির নির্দেশ না থাকায় সেখানে অভিযান চালাতে সাহস করেন না থানা পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা। খিলগাঁও থানার ওসি কাজী মইনুল হোসেন জানিয়েছেন, থানার পেছন পাশে মাদক আখড়া গড়ে তোলার মূল হোতা রাজিবের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রুজু আছে। তাকে পাঁচ-সাতবার গ্রেফতার করে জেলেও পাঠানো হয়েছে। তার সহযোগী শুক্কুর, সোহেলসহ ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া আছে। পুলিশি অভিযানও চালানো হয়েছে অনেকবার। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। তবে গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে অন্য কথা। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থানার বিশেষ একটি সিন্ডিকেট এ মাদক বাজারটি পরিচালনা করছে। তাই এটি বন্ধ হচ্ছে না। খিলগাঁও থানার ওসি কাজী মঈনুল হোসেন হাজারীবাগ থেকে বদলির সময় তার সঙ্গেই এসআই মনির হোসেন, এএসআই দানা মিয়া, কনস্টেবল সোনাহার, কনস্টেবল আনোয়ার, আনসার সদস্য মফিজ, মুন্সী শফিক ও সোর্স জাফর আলীকে এ থানায় বদলি করিয়ে আনেন। তাদের এই পুরনো সিন্ডিকেটই মাদক বাণিজ্য থেকে শুরু করে সব ধরনের অপরাধের নেপথ্য যোগানদাতা। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এ সিন্ডিকেট সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে ডিএমপি। সংশ্লিষ্টদের ভিন্ন ভিন্ন থানায় বদলি করাসহ বিভাগীয় তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। তবে পালের গোদা ওসি মাইনুল এ যাত্রায়ও নিজেকে রক্ষা করার নানা ফন্দিফিকির চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকা। এখানে অহরহ ঘটছে ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে, প্রায়শ হচ্ছে খুনাখুনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূলত মাদক ব্যবসাকে ঘিরেই অন্যসব অপরাধের বিস্তার ঘটছে এখানে। আর এ মাদক ব্যবসা চলছে সমঝোতার ভিত্তিতে। পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী অন্তত ২০ জন সরাসরি মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে আছেন সাহায্য করছে। তারাই ম্যানেজ করছে থানা পুলিশ, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের। এদিকে দিন দিন নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে এলাকাবাসীর। রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকার অধিকাংশ স্থানেই রয়েছে মাদক বিক্রির স্পট। স্থানীয়রা জানান, সোসর্রাই দৈনিক প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাদক বাণিজ্য সচল রেখেছে। তাদের অনেকের নামে রয়েছে একাধিক মাদক ও ছিনতাই মামলা। গ্রেপ্তারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে কয়েকজন ঘুরছে থানার চত্ত্বরে। এদিকে মাদক ও জুয়ার স্পটগুলো থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে মোটা চাঁদা পাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মী, সংশ্লিষ্ট থানার কয়েকজন পুলিশ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট জোনের কয়েকজন কর্মকর্তা। সূত্র জানায় কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার বোতল ফেন্সিডিল ও চট্টগ্রাম এবং টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার পিস ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক সহ গভীর রাতে এ্যাম্বুলেন্স ও বিলাসবহুল গাড়িতে খিলগাঁও-এ পৌছায়। সেগুলো নামানো হয় খিলগাঁও থানার পাশেই ফরমা খালেক ও রাজিবের বাড়িতে। তিলপাপাড়া কালভার্ট রোড, ভূইয়া ঝিলপাড়, ৫নং রোড, বেদেনার বাড়ি, নন্দীপাড়া রিফিউজি ক্যাম্প, সিপাহিবাগ আইসক্রীম গলির বড় মোকাম। ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের বন্টন ও সরবরাহ নিবিঘেœ রাখতে নন্দীপাড়া ব্রিজে রাতভর থাকে পুলিশের ভ্যান। একেই সঙ্গে থাকে পুলিশের বিশেষ টিম। পুলিশ ভ্যান নিয়ে ডিউটিরত টিমকে প্রতিরাতে তিন হাজার ও টিমের ইনচার্জ কে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। সময় সুযোগ বুঝে দিনের বেলায় মাদকদ্রব্য গুলো নারি-পুরুষ-কিশোর এবং মাদকসেবীদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্পটে পৌছে দেওয়া হয়। এদিকে অনেক স্পটে আছে এলার্ম সিস্টেম। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আসার খবরে বেজে উঠে সেই এলার্ম। সঙ্গে সঙ্গে গোপন পথে পালিয়ে যায় মাদক বিক্রেতারা। সম্প্রতি খিলগাঁও এর শান্তিপুর ৫নং গলির বেদেনা নামের এক মাদক ব্যবসায়ীর বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সে সময় এলার্ম বাজিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের পালানোর দৃশ্য দেখে অভিযানকারীরাই রীতিমত অবাক বনে যান। মাদকের যত ঘাঁটি খিলগাঁও থানা এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে বিশটিরও বেশি সিন্ডিকেট। অর্ধ-শতাধিক প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ী এসব সিন্ডিকেট রয়েছে দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ও মাদক ব্যবসায়ী আছে ভিন্ন ভিন্ন নামে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, পেথিডিন, গাজাঁর স্পট দেখা গেছে সন্ধ্যা নামতেই বাসা বাড়ি এমনকি মহল্লার গলিতে লাইনে দাঁড় করিয়ে এবং ভবন থেকে প্লাস্টিকের বালতিতে পেলে চাহিদামত সরবরাহ করা হয়। খিলগাঁও থানার পিছনের গলির ২০০ গজ দুরে তিনটি মাদকের স্পট আছে। থানার পিছনের গলিতে ‘ইয়াবার বড় মোকাম’ হিসেবে পরিচিত স্পটটি নিয়ন্ত্রণ করে রাজিব ও ডিবি সোর্স হুমায়ুন। তাদের সিন্ডিকেটে রাজিবের ম্যানেজার শুক্কুর আলী, সোহেল, সুন্দর জনি, মাসুদ, জংসিন, রাসেল ওরফে কাঁনা রাসেল, রনি, মিরু, সাগর ওরফে ইয়াবা সাগর, কথিত বাবা সুজন, জোবায়ের, তুশার, আনোয়ার, টোকাই জয়নাল, তন্ময়, রাজিবের স্ত্রী বৃষ্টি ও রাজীবের রক্ষিতা রেহেনা এবং ফরমা খালেকের মেয়ে নাজমা, শাবানা, ফাতেমা, কুলসুম, কানা রাসেল, শুভ, খালেকের ছেলের বউ পাখি, তালতলা মার্কেটের মাছ বাজারের দোতলায় ও নীচ তলায় তপন, বধু, দই মাছুম, গোয়াইল্লা লাভু, খিলগাঁও ভূইয়ার ঝিলপাড়ে ফেন্সিডিল ও ইয়াবার স্পটটি নিয়ন্ত্রন করে বেদেনা ও কসাইয়ের ছেলে ইব্রাহিম তাদের সিন্ডিকেটে আছে আরিফ, খায়েরের ছেলে সুজন,  আনোয়ার, সোহেল, রমজান,  শান্তিপুর ৩নং ও ৪নং, ৫ ও ৬নং গলির স্পটটি নিয়ন্ত্রণ করে সোহাগ ও খিলগাঁও থানার সোর্স সেলিম ও সাগর, বিল্লাল, রনি, চান্দি ইকবাল, জাফর। কুমিল্লা বস্তিতে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রন দাতা-ইউনুছ, কনক, পোলক, লিঙ্কন । সি ব্লকের বড় স্পট অবস্থিত এ স্পটি নিয়ন্ত্রণ করে জেনারেটর রিপন ও নেসার তাদের সিন্ডিকেটে তুহিন, জাহাঙ্গীর, ভুট্টু, লিজু, কালু, নুরু, বাদল, রানা তাছাড়া আরও পনের জনের সহযোগী বাহিনী রয়েছে। সি-ব্লক, টিএন্ডটি কলোনীর পিছনে ইয়াবার বড় স্পট এবং জুয়া নিয়ন্ত্রণ করে তছলিম, সিপাহীবাগ মদন গলিতে গাজার স্পট নিয়ন্ত্রন করে-হেলু, সাইদা, মুন্নি, মিলন, কুতুব, সুমী, ইয়াবা সামী, শিশির, রাব্বি, রাজা, তাছাড়া সিপাহীবাগ আইসক্রীম গলিতে গাজা ও ইয়াবার স্পট চালায় জুনায়েদ উরফে জুনা, নুরুজ্জামান, মাইচ্ছা মিলন, টিউমার-আলামিন, গাজা মিন্টু নাডা সুমন, মিল্টনসহ আরও দশজন আছে এবং তিলপাপাড়া কালবার্ড বাজার ও একতা সড়কে মাদক নিয়ন্ত্রণ করে-সুন্দরী রুমা ওরফে ফেন্সি রুমা, কালি-পারভিন, লতিফ ওরফে লইত্ত্বা, লাইলী, মেহেদী, পিচ্ছি বাবুল, মান্নান-পিতা-জামাল, ফরমা মাইদুল, মাদক সম্রাজ্ঞী মাফিয়া সুন্নির ছেলে মিলন, রনি, চোরা মিন্টু, মাফিয়ার ভাই বাবুল, তানিয়া, দুনিয়া, মৌ, পারভিন, বিল্লাল, সিপাহিবাগ কবরস্থান গলিতে মাদক স্পট চালাচ্ছে-এমপুল বাবুল ওরফে গরু বাবুল, মুরগী স্বপন, ফরমা মিজান, খিলগাঁও তিলপাপাড়া একতা সড়কে মাদক স্পট চালাচ্ছে-কাজী সিরাজ, খিলগাঁও ঈদগাহ মসজিদ ফাতেমা আক্তার রেখা, বাছির, ভূয়া ডিবি বাদল, নবীনবাগ বালুর মাঠে স্পট নিয়ন্ত্রণ করে হোসেন কানা ও তার ছেলে তুহিন, তুষার, লেকার পোলা পলাশ ও সিন্ডিকেটে আছে আরও বেশ কয়েকজন। ভূইয়া পাড়ার মোড়ে স্পট নিয়ন্ত্রণ করে বিল্লাল, ইসমাইল, টুকু, মেরাদিয়া স্কুল গলির ইয়াবার মোকামের নিয়ন্ত্রণ করে বাটার ওরফে স্বপন সহ ১৫ জন। পোড়াবাড়ির মোড়ে গাজার স্পটটি নিয়ন্ত্রণ করে কল্পনা, গোড়ান টেম্পু স্ট্যান্ডে কসাই বাবুল, নেতা সাইফুল, মনা। গোড়ান ৭নং গলির সুমি ও মৌসুমী, জুয়েল, সোহেল, রুবেল এরা তিন ভাই গোড়ান ৮নং গলি পানির পাম্প ছেরে বনশ্রী পানির পাম্প এরং ঐ খানের বালুর মাঠ সংলগ্ন পরেন বাবু, রিপা। গোড়ান ছাপড়া মসজিদ সংলগ্ন হাওয়াই গলির স্পটটির নিয়ন্ত্রণ করে-সাইফুল ও সাইফুলের স্ত্রী সীমা, আকাশ, রনি, আরিফ, খোকন, বিল্লাল, হাবিব। দক্ষিণ বনশ্রী তিতাস রোডে সগীর, ফরহাদ, শাহানাজ, বাবু, দক্ষিণ বনশ্রীতে আরও আছে এনামুল হক রিপন, কাঠ ফারুক, পেসপেস শামীম, নয়ন, জাপানী বাবু, বক্সার বাবু এর সিন্ডিকেটে আরও আছে ১৫ জন। খিলগাঁও পোড়াবাড়ি মোড়ের ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রন করে রফিক, ইউসুফ, ইউসুফের বউ, গাফ্ফার, ফরমা জাফর এদের সিন্ডিকেটে আরও দশ জন। রিফিউজি ক্যাম্পে মাদকের বড় স্পটটি নিয়ন্ত্রন করে সামছুন্নি, মিনু, রিপন, তাছলি, হযরত, তোফাজ্জেল, রুবেল, চোরা রিপন-মাছুম, টিটু, আনসার। ত্রিমোহনী শেখের জায়গার স্পটটি নিয়ন্ত্রণ করে জিন্নাহ, মনির, ডাকাত জলিল, মাইনুদ্দিন, জাহাঙ্গীর, নন্দীপাড়া ৬নং রোডে লাঙ্গল বাবু, রনি মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। গোড়ান ৮নং সিঙ্গেল, ওয়াহিদ, নবাবীর মোড়ে সুজন, রুবেল, সাগর, হাবিবুর রহমান টিপু, নবীনবাগ বস্তিতে ইয়াসিন, তারা, মর্জিনা, মিয়ার পোলা রিদু, মেরাদিয়া লালমিয়ার গলি রজুয়ার স্পট ও মাদক নিয়ন্ত্রন করে-হালিম, মাইনু, শুক্কুর, ফয়সাল এছাড়া নিয়মিত বখরা দিয়েছে ভ্রাম্যমান ও খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে নির্বিঘেœ এসব মাদক স্পট সচল রাখতে পুলিশের সোর্স পরিচয় দানকারীদের রয়েছে চুক্তি। খিলগাঁও থানা পুলিশ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট জোনের কর্মকর্তার নামে তারা সাপ্তাহিক ও মাসিক এমনকি কোন কোন স্পট থেকে দৈনিক হারে আদায় করছে মোটা টাকা এবং থানার বিশেষ টিমের নামে ৬৫টি স্পট থেকে তারা স্ব-শরীরে অথবা বিকাশের মাধ্যমে সপ্তাহের টাকা আদায় করছে। স্পটপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের খিলগাঁও জোনের কর্মকর্তার নামে মাদকের স্পট থেকে সপ্তাহে উঠানো হয় তিন থেকে চার হাজার টাকা করে ফরমা হুমায়ুন। খিলগাঁও থানার সোর্স পরিচয় দানকারী মাদক স্পট থেকে নির্ধারিত টাকা উঠায় দানকারী সেলিম, সাগর, রনি, বিল্লাল,  ফরমা হুমায়ুন, আলমগীর,  মিজান, গাফ্ফার এলাকা থেকে টাকা তোলেন। মাদক বিরোধী আন্দোলন দমাতে অন্যরকম অভিযান রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাদক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরাই এখন মাদক ব্যবসায়ীদের হুমকির মুখে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়িরা কতিপয় পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) টিম নিয়ে আন্দোলনকারীদের বাড়ি বাড়ি চড়াও হচ্ছেন। তাদের হুমকি ধমকিতে হয়রানি-নির্যাতনের অজানা শঙ্কায় আছেন মাদক বিরোধীরা। এদিকে মাদক উচ্ছেদের আন্দোলন বন্ধ থাকায় ফের মাঠ দখল করে নিয়েছে মাদক ব্যবসায়িরা। খিলগাঁওয়ে আবার সচল হয়েছে মাদক কেনাবেচার খোলামেলা হাটবাজার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী কয়েকজন জানান, গত এক মাস ধরে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে মাদক বিরোধী আন্দোলন চলছিল খিলগাঁও এলাকায়। আন্দোলনকারীরা খিলগাঁও থানা ভবন ঘেষেই গড়ে ওঠা রাজিব-শুক্কুরের মাদক বাজারসহ ওই থানা এলাকার ৫৭টি মাদক স্পট অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ লক্ষ্যে প্রায় প্রতিদিনই সেখানে মাদক বিরোধী প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, থানা ঘেরাওসহ নানা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছিলেন তারা। মাদক বিরোধী এ আন্দোলনে স্কুল-কলেজের শিার্থীরাসহ সর্বস্তরের লোকজন অংশ নেন খিলগাঁও থানা ওসি কাজী মাইনুল সহ মাদকের বিরুদ্ধে মানব বন্ধন র্যা লীতে অংশ নেন। তাদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে মাদকের খোলামেলা বেচাকেনা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। ডাকসাইটে মাদক ব্যবসায়িরাও অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলো। এদিকে সবকিছুর জন্য ‘মাদক বিরোধী আন্দোলনকারীদের’ দায়ী করে কতিপয় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার কৌশলে নামে মাদক ব্যবসায়িরা। গত ২৭ জুলাই, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে এলাকার মাদক সম্রাট হিসেবে চিহ্নিত ১৯ মামলার আসামি রাজিব ও ফর্মা হুমায়ুনকে সঙ্গে নিয়ে ডিবি’র একজন এসি ও রাত সাড়ে তিনটায় যুবলীগ নেতা আব্দুল আজিজের খিলগাঁও রেলগেটস্থ বাসায় গিয়েও পরিবারের সবাইকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তটস্থ করে তোলার অভিযোগ করেছেন ও খিলগাঁও থানার মাদক ব্যবসায়ীর লিস্টেট বানাবে বলে হুমকি প্রদান করেন। এছাড়াও মাদক বিরোধী মানববন্ধনে অংশ নেওয়া তিলপাপাড়ার শাহীন, আব্দুর রহমান, গোড়ানের চঞ্চল, আলী হোসেন, মোমিন খাঁনসহ খিলগাঁও এলাকার বেশ কয়েকজনের বাড়িতেও ডিবি’র ওই এসির নেতৃত্বে ৮/৯ জনের টিম হানা দেয় বলে জানা গেছে। ডিবি টিমের সঙ্গে থাকা মাদক ব্যবসায়ি রাজিব আলী, ফর্মা হুমায়ুন, শুক্কুরআলী সহ কয়েকজন প্রকাশ্যেই হুমকি দিয়ে গেছে, মাদক নিয়ে আন্দোলনের শখ মিটিয়ে দেয়া হবে ও গত ১২ইং তারিখে ম্যাসেজের মাধ্যম্যে হুমকি প্রদান করে আবার মাদকের বিরুদ্ধে নিউজ করলে। রাজিব মোবাইল ফোনে হুমকি প্রদান করে জানে মেরে ফেলবে অথবা মোটা অংকের টাকা দিয়ে মাদক দিয়ে ধরিয়ে দিবে। সাংবাদিক আব্দুল আজিজ খিলগাঁও থানায় জিডি করেন, যাহার ডাইরী নং-১৬০০। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং আইজিপির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, মাদক সম্রাটদের কাছ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল খিলগাঁও থানার কেউই কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। থানার এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযান একটি রুটিন ওয়ার্ক। এক্ষেত্রে কাউকেই অহেতুক হয়রানি করার সুযোগ নেই। সুনিদৃষ্ট তথ্য পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top