নিউজ টপ লাইন
জমি বন্ধকে ঋণ জালিয়াতি রূপায়নের মালিকের ভাই রতনসহ দু’জন গ্রেফতার

জমি বন্ধকে ঋণ জালিয়াতি রূপায়নের মালিকের ভাই রতনসহ দু’জন গ্রেফতার

অপরাধ বিচিত্রাঃ
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) গুলশান কর্পোরেট শাখা থেকে ৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে রূপায়ন গ্রুপের মালিকের ছোট ভাইসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারা হলেন রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলের ছোটভাই রতন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলী আকবর খান রতন ও সার্ভে কোম্পানি জিওটিকের স্বত্বাধিকারী প্রকৌশলী গোলাম কবির। দুদকের সিনিয়র উপপরিচালক জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে একটি টিম  গুলশানের বাসা থেকে আলী আকবর খান রতনকে ও  রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে প্রকৌশলী গোলাম কবিরকে গ্রেফতার করে। এর আগে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আজিজুল হক বাদী হয়ে প্রতারণা, জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলী আকবর খান রতন ও ইউসিবিএল ব্যাংকের শাখা ম্যানেজারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গ্রেফতারের পর দু’জনকে  আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জেলে পাঠিয়েছেন। দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের শেষের দিকে রতন ট্রেডার্সের মালিক আলী আকবর খান রতন ইউসিবিএল ব্যাংকের গুলশান কর্পোরেট শাখায় ১৮০ কোটি টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন। এ ঋণ পাওয়ার জন্য তিনি সাভারের মন সন্তোষপুর ও তৈয়বপুর মৌজায় শিল্পপতি এনএইচ বুলুর মালিকানাধীন ১০৫ বিঘা জমি নিজের দাবি করে তা ব্যাংকে বন্ধক রাখেন। ঋণ পাওয়ার জন্য তিনি ওই জমির মালিকানার কাগজপত্রও জাল করেন। পরে তার বন্ধকি সম্পত্তির বিপরীতে ঋণ দেয়া যায় কিনা তা যাছাইয়ের জন্য প্রকৌশলী গোলাম কবিরের জিওটিক সার্ভে কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয় ব্যাংক। পরে তার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সাভারের ১০৫ বিঘা জমির বিপরীতে ৪৫ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করে ব্যাংকের ওই শাখা। অভিযোগ থেকে জানা যায়, শিল্পপতি বুলুর জমি নিজের দাবি করে ৪৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পর তা থেকে ৩৬ কোটি টাকা দিয়ে বুলুর ওই একই জমি কেনেন আলী আকবর খান রতন। অথচ ঋণ নেয়ার আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, এ অর্থ দিয়ে আমদানি-রফতানি ব্যবসা করবেন। ২০১২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অডিট টিম এ ঋণ জালিয়াতির ঘটনা জানতে পারে। সেই সূত্রে ২০১২ সালেই অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। কিন্তু এতদিনেও অনুসন্ধান শেষ করতে না পারায় মামলা করতে দেরি হয়। দুদকের মামলায় ব্যাংকের যে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন-ওই সময়ে (২০১০-১১) ব্যাংকটির শাখা ম্যানেজার ও বর্তমানে যমুনা ব্যাংক গুলশান শাখার ম্যানেজার বরুন কান্তি সাহা, অপারেশন ম্যানেজার শাফাকাত রাব্বি ও ক্রেডিট শাখার এসএভিপি মনোয়ার হোসেন। দুদকের সিনিয়র উপপরিচালক জুলফিকার আলী জানান, দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্যবসায়ী আলী আকবর খান রতন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রতন ট্রেডার্সের নামে ঋণের আবেদন করলেও ওই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ঋণ পেতে সহায়তা বা জমি বন্ধকের কাজে শিল্পপতি এনএইচ বুলুর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা আছে কিনা তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top