নিউজ টপ লাইন
একই অঙ্গে কত রূপ ত্যাগী আওয়ামীলীগার দিনকাল বার্তা সম্পাদক!

একই অঙ্গে কত রূপ ত্যাগী আওয়ামীলীগার দিনকাল বার্তা সম্পাদক!

বিশেষ সংবাদদাতা ঃ
এ যেন একই অঙ্গে বহুরূপ। একদিকে সরকার দলীয় ঘোর বিরোধী। অন্যদিকে নব্য আওয়ামী লীগার সেজে বাগিয়ে নিচ্ছেন নানা সুবিধা। আবার একটি মাদ্রাসার পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে সরকারী সুবিধাসহ বেতনভাতা নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত দৈনিক দিনকাল এর ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদর্ক পদে থেকেও পাচ্ছেন পূর্ণ বেতন-ভাতা। তিনি সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠনের সাথেও জড়িত। এ সুবাদে সাংবাদিকতার অপব্যবহার করেই ব্ল্যাকমেলিংসহ নানা অপকর্ম করছেন। পাশাপাশি তার অপকর্মের প্রতিবাদকারীদের মুখে কলুপ এঁটে দিচ্ছেন।
বহুরূপী এ ব্যক্তির নাম রাশেদুল হক। তার বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তবে বহু বছর ধরেই সপরিবারে ঢাকার মিরপুর থাকছেন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ মতে, সব মহলেই রাশেদুল হক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিএনপির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দৈনিক দিনকাল-এ কর্মরত। বর্তমানে পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে মিরপুর ১ নং সেকশন এলাকায় তার পরিচয় একজন মাদ্রাসা শিক্ষক হিসেবে। তিনি শাহআলী থানাধীন মসজিদুল আকবার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক। তার এমপিও ইনডেক্স নম্বর ৬৪৪২৬৬।
জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাশেদুল হক ওই মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক (কৃষি) হিসেবে চাকুরি লাভ করেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই দ্রুত এমপিওভুক্ত ছাড়াও ক্ষমতার বিস্তার ঘটান। মাদ্রাসায় দিনের পর দিন অনুপস্থিত থেকেও মাস শেষে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন। কর্তব্য কাজে ফাঁকির বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দূরের কথা, কেউ কোনো কথা বলারও সাহস পায়নি। কারণ একদিকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাধর, অন্যদিকে জাঁদরেল (!) সাংবাদিক। তিনি তুচ্ছ ঘটনায়ও পত্রিকায় রিপোর্ট করাতে পারেন। সাংবাদিকতার সুবাদে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা বোর্ড কিংবা মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গেই রয়েছে তার বিশেষ সম্পর্ক। তাছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বাড়ি কাপাসিয়ায় হওয়ায় তার পোয়াবারো। আর এ সম্পর্ক এবং নিজের পরিচিতিকে পুঁজি করেই মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষক এবং পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তাদের দাবড়িয়ে বেড়ান। চারদলীয় জোট সরকারের পতন হলেও রাশেদুলের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। বরং বোল পাল্টে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছেন।
ঘনিষ্ঠরা জানান, রাজনৈতিকভাবে কাপাসিয়া এবং সাংবাদিক ইউনিয়নে রাশেদুলের পরিচিতি বিএনপিমনা। তিনি এক সময় নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহ আবদুল হান্নানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে জাহির করতেন। হালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে প্রচার করেন। তাছাড়া দীর্ঘকাল ধরে বিএনপির মুখপত্র দৈনিক দিনকালে সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকায় বিএনপি নেতাদের সাথে তার দহরম-মহরম সম্পর্ক। এরপরও তিনি নিজেকে কিভাবে আওয়ামী পরিবারের সদস্য দাবি করছেন, তা নিয়ে বিস্মিত সকলে। প্রায় আড়াই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো রাশেদুলের একটি আবেদনকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে কৌতুহলও। ওই আবেদনে রাশেদুল দাবি করেন তার পিতা মৃত আব্দুল সালেক মুন্সী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্ত্রী হেলেনা বেগম মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং মাতা শিরিয়া বেগম শিবপুর থানা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তার পিতা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। পক্ষান্তরে মসজিদুল আকবার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে জামায়াত কানেকশনের অভিযোগ তোলা হয়। মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত নিজের অপকর্ম ঢাকতেই রাশেদুল খোলস পাল্টাবার কৌশল নিয়েছেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রাশেদুল হক  দাবি করেছেন প্রধান মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেননি। শিক্ষকতা করেন না। এই সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ করেন।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top