নিউজ টপ লাইন

` আবুজার গিফারী কলেজের শিক্ষক বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাসের একক রাজত্ব চলছে

মোঃ আবদুল আলীমঃ
প্রতি বছর এইচ এস সি পীরক্ষার্থীদের জন্য এক আতংকের নাম আবুজার গিফারী কলেজ। ঢাকার মালিবাগে অবস্থিত প্রায় পঞ্চাশ বছরের পুরাতন এই কলেজটি যেন ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতি বছর একটি ভয় কাজ করে তাদের যেন আবুজার গিফারী কলেজে সিট না পড়ে। কারন পরীক্ষা চলাকালীন এ কলেজে পরীক্ষার্থীরা হয়রানির শিকার হয়। পরীক্ষা হলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সামান্য ব্যাপারে অতিরিক্ত হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছর এ কলেজে এইচ এস সি পক্ষীার সিট পড়ে ঢাকা ইমপেরিয়াল কলেজ, হাবিবুল্লা বাহার কলেজ ও সিদ্দেসরি কলেজের পরীক্ষার্থীদের। ০২-৪-১৭ ইং তারিখে পরীক্ষার প্রথম দিনে অডিটরিয়ামে ৩৫ জন পরিক্ষার্থীর খাতা ছিনিয়ে নিয়ে কারো দশ মিনিট কারো বিশ মিনিট করে আটকিয়ে রাখা হয়। অপরাধ ঘাড় ঘোড়ানো। প্রচুর সংখ্যক পরীক্ষার্থী ও অভিবাবকের কাছ থেকে এধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ শিক্ষা বোর্ড থেকে নির্দেশনা দেয়া আছে এভাবে খাতা ছিনিয়ে না নেয়ার। প্রতিটি পরীক্ষায় ওএমআর শিট পরীক্ষা হলে কর্তব্যরত শিক্ষক কর্তৃক ছেঁড়ার নির্দেশনা থাকলেও আবুজার গিফারী কলেজ তা জোরপূর্বক পরীক্ষার্থীদের দিয়ে ছিঁড়িয়েছে। এ নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করেছে। পরীক্ষা হলে পরীক্ষার্থীদের সময় বাঁচানোর জন্যই কর্তব্যরত শিক্ষক কর্তৃক ওএমআর শিট ছেঁড়ার নির্দেশনা রয়েছে। খাতা সেলাই নিয়ে আরেক দফা হয়রানি হয়েছে বলে প্রকাশ। যারা অতিরিক্ত কাগজ নিয়েছে তাদের খাতা সেলাই করার দায়িত্ব আয়া ও দারোয়ানদের। অনেক আয়া ও দারোয়ান এই দায়িত্ব ঠিকমত পালন করে নাই। এর দায় পরীক্ষার্থীদের ওপর চপিয়ে দিয়ে কর্তব্যরত শিক্ষকরা  খাতা বাতিল হয়ে যাবে, পরের দিন পরীক্ষা দিতে পারবে না ইত্যাদ বলে হুমকি ধমকি মেরছে বলে অসংখ্য পরীক্ষার্থী ও অভিবাবক এ প্রতিবেদককে জানান। এধরনের জুলুমের কারনে গত ০৬-৪-১৭ ইং তারিখে হাবিবুলালা বাহার কলেজের কিছু পরীক্ষার্থী আবুজার গিফারী কলেজের এক শিক্ষককে কলেজের গেটের সামনে মারধর করেছে বলে প্রকাশ। ১৫-৪-১৭ ইং তারিখে জীববিদ্যা দ্বিতীয় পত্র এবং ২৪-৪-১৭ ইং তারিখে পদার্থবিদ্যা প্রথম পত্র পরীক্ষায় সিগনেচার শিটে খাতার সিরিয়াল নম্বর তোলা হয়নি এবং পরীক্ষার্থীদের স্বাক্ষর নেয়া হয়নি। ২০৩ নং কামরায় কথা বলার অপরাধে এক পরীক্ষার্থীর (রোল নং শেষের ডিজিট দুটি ৫৫) খাতা ছিনিয়ে নিয়ে ৩০ মিনিট আটকিয়ে রাখা হয়। ৩০ মিনিট পর কর্তব্যরত শিক্ষক বাইরে থেকে নাস্তা করে এসে পরীক্ষার্থীকে খাতা ফেরত দেন মর্মে পরীক্ষার্থীর অভিভাবক এ প্রতিবেদককে জানান। ঢাকা ইমপেরিয়াল কলেজের পরীক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষা চলাকালীন কোন প্রকার হয়রানি বা ডিস্টার্ব করা যাবে না এ শর্তে আবুজার গিফারী কলেজ কর্তৃপক্ষকে ঢাকা ইমপেরিয়াল কলেজ থেকে প্রচুর টাকা দেয়া হয়। ইমপেরিয়াল কলেজ সূত্রে ও অভিভাবক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ব্যপারে গিফারী কলেজের অধ্যক্ষ শিরিন আক্তার বানুর সাথে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য চাইলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। আবুজার গিফারী কলেজের কিছু কর্মচারী নাম প্রকশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান অনিয়মিত পরাীক্ষার্থী অর্থাৎ ১৬ সালের পরীক্ষার্থীদেরক ১৭ সালে পরীক্ষা দেয়ার সময় নকলের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। তাই পরীক্ষার প্রথম দিনে অর্থাৎ ২-৪-১৭ ইং তারিখে  সংবাদ কর্মীদেরকে  গিফারী কলেজে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। রসায়ন শিক্ষক বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস এ বাধা দেয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৭-৫-১৭ ইং তারিখে সকাল ৮ ঘটিকায় গণিত ব্যবহারিক পরীক্ষায় ইমপেরিয়াল কলেজের ৮২০ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি ৮০০ টাকা করে মোট ৬, ৫৬ হাজার টাকা নেয় গিফারী কলেজের প্রভাষক ও রসায়ন শিক্ষক বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে দিয়ে টাকার পরিমান উল্লেখ করে রেজিষ্ট্রারে স্বাক্ষর করান বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস। অর্থাৎ রেজিষ্ট্রারে ছাত্র/ছাত্রীর নাম, রোল নং ও টাকার পরিমান উল্লেখ করে স্বাক্ষর নিয়েছেন। এ ব্যপারে বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাসের বক্তব্য নেয়ার জন্য  তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ধমকের সূরে কথা বলেন এবং বলেন, “কলেজ কর্তপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন”। একথা বলেই তিনি ফোন বন্ধ করে দেন। গত মে, ৩১, ২০১৭ ইং অধ্যক্ষ শিরিন আক্তার বানুর অফিস কামরায় গিয়ে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি  এ প্রতিবেদকের কাছে টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করেন ও বলেন বিভিন্ন কলেজ থেকে এক্সটারনাল এসেছিলেন ব্যবহারিক পরীক্ষার দিনগুলোতে। এসব এক্সটারনালদেরকে টাকা দেয়ার জন্য পীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়। প্রতিজন এক্সটারনালকে দশ হাজার টাকা করে ১০ জন এক্সটারনালকে দিলেও এক লাখ টাকার বেশি লাগার কথা নয়। অবশিষ্ট ৫ লাখ ছাপ্পান্ন হাজার টাকা কী করলেন এমন প্রশ্ন করলে অধ্যক্ষ শিরিন আক্তার বানু কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেন নাই। এইচ এস সি পরীক্ষার প্রথম দিনে  অডিটরিয়ামে ৩৫ জন পরীক্ষার্থীর খাতা ছিনিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে যেসব শিক্ষক কর্তব্যরত ছিলেন তাদের ব্যপারে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন ও তাদের নাম পরিচয় এ প্রতিবেদককে জানাবেন বলে অধ্যক্ষ শিরিন আক্তার বানু এ প্রতিবেদককে গত মে, ৩১, ২০১৭ ইং তারিখে নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তিতে তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এ ব্যপারে কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। আগামি সংখ্যায় আবুজার গিফারী কলেজের অনিয়ম দুর্নীতি ও  রসায়ন বিভাগের শিক্ষক বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাসের একক রাজত্ব, তার কোচিং বাণিজ্য, শ্রেনীকক্ষে অমনযোগিতা, প্রশ্নপত্র ফাঁসে তার ভূমিকা, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বিশেষ প্রতিবেদন থাকছে। (চলবে)

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top