নিউজ টপ লাইন

মাদকের অভয়ারণ্য খিলগাঁও অসাধু ও কতিপয় পুলিশ ও সোর্সের সচল বাণিজ্য বখরা যাচ্ছে থানা ও মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের পকেটে চাঁদা পাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু নেতা ব্যবসা দখল নিয়ে চলছে খুনোখুনি

আব্দুল আজিজ ঃ
অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকা। এখানে অহরহ ঘটছে ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে, প্রায়শ হচ্ছে খুনাখুনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূলত মাদক ব্যবসাকে ঘিরেই অন্যসব অপরাধের বিস্তার ঘটছে এখানে। আর এ মাদক ব্যবসা চলছে সমঝোতার ভিত্তিতে। পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী ২০ এর অধিক ব্যক্তি প্রত্যক্ষভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের সাহায্য করছে। তারাই ম্যানেজ করছে থানা পুলিশ,মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের। এদিকে দিন দিন নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ছে এলাকাবাসীর। রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকার অধিকাংশ স্থানেই রয়েছে মাদক বিক্রির স্পট। স্থানীয়রা জানান, দৈনিক প্রায় অর্ধকোটি টাকার এই মাদক বাণিজ্য সচল রেখেছে পুলিশ সোর্স পরিচয়দানকারী। তাদের অনেকের নামে রয়েছে একাধিক মাদক ও ছিনতাই মামলা। গ্রেপ্তারী পরোয়ানা মাথায় নিয়ে কয়েকজন ঘুরছে থানার চত্ত্বরে। এদিকে মাদক ও জুয়ার স্পটগুলো থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে মোটা চাঁদা পাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মী, সংশ্লিস্ট থানার কয়েকজন পুলিশ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট জোনের কয়েকজন কর্মকর্তা। সূত্র জানায় কুমিল্লার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার বতল পেন্সিডিল ও চট্টগ্রাম এবং টেকনাফের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার ফিস ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক সহ গভীর রাতে এ্যাম্বুলেন্স ও বিলাসবহুল গাড়িতে খিলগাঁও-এ পৌছায়। সেগুলো নামানো হয় খিলগাঁও থানার দুইশত গজ পিছনে ফরমা খালেক ও রাজিবের বাড়িতে। তিলপাপাড়া কালবার্ট রোড, ভূইয়া ঝিলপাড়, ৫নং রোড, বেদেনার বাড়ি, নন্দীপাড়া রিপোজি ক্যাম্প। সিপাহিবাগ আইসক্রীম গলির বড় মোকামে ইয়াবা ও পেন্সিডিলের বন্টন ও সরবরাহ নিবিঘেœ রাখতে নন্দীপাড়া ব্রিজে রাতভর থাকে পুলিশের ভ্যান। একেই সঙ্গে থাকে পুলিশের বিশেষ টিম। পুলিশ ভ্যান নিয়ে ডিউটিরত টিমের ইনচার্জ  কে প্রতিরাতে তিন হাজার ও টিমের ইনচার্জ কে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। সময় সুযোগ বুজে দিনের বেলায় মাদকদ্রব্য গুলো নারি-পুরুষ-কিশোর এবং মাদকসেবীদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্পটে পৌছে দেওয়া হয়। এদিকে অনেক স্পটে আছে এলার্ম সিস্টেম, আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর আসার খবরে বেজে উঠে সেই এলার্ম। সঙ্গে সঙ্গে গোপন পথে পালিয়ে যায় মাদক বিক্রেতারা। সম্প্রতি খিলগাঁও এর শান্তিপুর ৫নং গলির বেদেনা নামের এক মাদক ব্যবসায়ীর বাসায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সে সময় এলার্ম বাজিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের পালানোর দৃশ্য দেখে ভড়কে যান অভিযানকারীরাই ঃ
সূত্র জানায়, খিলগাঁও থানা এলাকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে বিশ এর অধিক  সিন্ডিকেট, অর্ধ-শতাধিক প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীর এসব সিন্ডিকেট রয়েছে দুই শতাধিক ক্ষুদ নারি-পুরুষ ও মাদক ব্যবসায়ী আছে ভিন্ন ভিন্ন নামে ইয়াবা, পেনসিডিল, পেথিডিন, গাজাঁর স্পট দেখা গেছে সন্ধ্যা নামতেই বাসা বাড়ি এমনকি মহল্লার গলিতে লাইনে দাঁড় করিয়ে এবং ভবন থেকে প্লাস্টিকের বালতিতে পেলে চাহিদামত সরবরাহ করা হয়। খিলগাঁও থানার পিছনের গলির ২০০ গজ দুরে তিনটি মাদকের স্পট আছে। থানার পিছনের গলিতে ইয়াবার বড় মোকাম হিসেবে পরিচিত স্পটটি নিয়ন্ত্রণ করে ফরমা খালেক, রাজিব ও ডিভি পুলিশের সোর্স খোকন ওরফে তাপস। তাদের সিন্ডিকেটে সোহেল  সুন্দর জনি, মাসুদ, জংসিন, রাসেল ওরফে কাঁনা রাসেল, রনি, মিরু, সাগর ওরফে ইয়াবা সাগর, কথিত পুলিশের সদস্য ইয়াবা মামুন, বাবা সুজন, জোবায়ের, তুশার, শুক্কর, টোকাই জয়নাল, তন্ময়, রাজিবের রক্ষিতা বৃষ্টি ও রেহেনা এবং ফরমা খালেকের মেয়ে নাজমা, শাবানা, ফাতেমা, কুলসুম, কানা রাসেল, শুভ, খালেকের ছেলের বউ পাখি, তালতলা মার্কেটের মাছ বাজারের দোতলায় ও নীচ তলায় তপন, বধু, দই মাছুম, গোয়াইল্লা লাভু, বিএনপি নেতা জাবেদ । খিলগাঁও ভূইয়ার ঝিলপাড় ও ৫নং গলি শান্তিপুর ফেন্সিডিল ও ইয়াবার স্পটটি নিয়ন্ত্রন করে বেদেনা ওরফে বেতনও নাইট গার্ড খায়ের, তাদের সিন্ডিকেটে আছে আরিফ, খায়েরের ছেলে সুজন, ইব্রাহিম, আনোয়ার, সোহেল, রমজান, ভুট্টুর ভাগিনা সোহাগ, শান্তিপুর ৩নং ও ৪নং গলির স্পটটি নিয়ন্ত্রণ করে খিলগাঁও থানার সোর্স সেলিম ও সাগর, বিল্লাল, রনি, চান্দি ইকবাল, জাফর। কুমিল্লা বস্তিতে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রন দাতা-ইউনুছ, কনক, পোলক, লিঙ্কন । সি ব্লকের বড় স্পট ব্লকে অবস্থিত এ স্পটি নিয়ন্ত্রণ করে জেনারেটর রিপন ও নেসার তাদের সিন্ডিকেটে তুহিন, জাহাঙ্গীর, ভুট্টু, লিজু, কালু, নুরু, বাদল, রানা তাছাড়া আরও পনের জনের সহযোগী বাহিনী রয়েছে। সি-ব্লক টি এন্ড টি কলোনীর পিছনে ইয়াবার বড় স্পট এবং জুয়া নিয়ন্ত্রণ করে তছলিম ও যুবলীগ নেতা সাধু। সিপাহীবাগ মদন গলিতে গাজার স্পট নিয়ন্ত্রন করে-হেলু, সাইদা, মুন্নি, মিলন, কুতুব, সুমী, ইয়াবা সামী, শিশির, রাব্বি, রাজা, তাছাড়া সিপাহীবাগ আইসক্রীম গলিতে গাজা ও ইয়াবার স্পট চালায় জুনায়েদ উরফে জুনা, নুরুজ্জামান, মাইচ্ছা মিলন, টিউমার-আলামিন, গাজা মিন্টু নাডা সুমন, ছোট আজিজ, মিল্টন, সহ আরও দশজন আছে এবং আইসক্রিম গলিতে জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণ করে নুর মোহাম্মদ। তিলপাপাড়া কালবার্ড বাজার ও একতা সড়কে মাদক নিয়ন্ত্রণ করে-সুন্দরী রুমা ওরফে ফেন্সি রুমা, কালি-পারভিন, লতিফ ওরফে লইত্ত্বা, লাইলী, জাহিদ, মেহেদী, পিচ্ছি বাবুল, মান্নান, পিতা-জামাল, মাদক সম্রাজ্ঞী মাফিয়া সুন্নির ছেলে মিলন, রনি, চোরা মিন্টু, মাফিয়ার ভাই বাবুল, তানিয়া, দুনিয়া, মৌ, পারভিন, বিল্লাল, সিপাহিবাগ কবরস্থান গলিতে মাদক স্পট চালাচ্ছে-এমপুল বাবুল ওরফে গরু বাবুল, মুরগী স্বপন, ফরমা মিজান, খিলগাঁও তিলপাপাড়া একতা সড়কে মাদক স্পট চালাচ্ছে-কাজী সিরাজ, খিলগাঁও ঈদগাহ মসজিদ ফাতেমা আক্তার রেখা, বাছির, ভূয়া ডিবি বাদল, নবীনবাগ বালুর মাঠে স্পট নিয়ন্ত্রণ করে হোসেন কানা ও তার ছেলে তুহিন, তুষার, লেকার পোলা পলাশ ও সিন্ডিকেটে আছে আরও বেশ কয়েকজন। ভূইয়া পাড়ার মোড়ে স্পট নিয়ন্ত্রণ করে বিল্লাল, ইসমাইল, টুকু, মেরাদিয়া স্কুল গলির ইয়াবার মোকামের নিয়ন্ত্রণ করে বাটার ওরফে স্বপন সহ ১৫ জন। পোড়াবাড়ির মোড়ে গাজার স্পটটি নিয়ন্ত্রণ করে কল্পনা, গোড়ান টেম্পু স্ট্যান্ডে কসাই বাবুল, নেতা সাইফুল, মনা। জুয়েল, সোহেল, রুবেল এরা তিন ভাই গোড়ান ৮নং গলি পানির পাম্প ছেরে বনশ্রী পানির পাম্প এরং ঐ খানের বালুর মাঠ সংলগ পরেন বাবু, রিপা। গোড়ান ছাপড়া মসজিদ সংলগ্ন হাওয়াই গলির স্পটটির নিয়ন্ত্রণ করে-সাইফুল, সীমা, আকাশ, রনি, আরিফ, খোকন, বিল্লাল, হাবিব। দক্ষিণ বনশ্রী তিতাস রোডে সগীর, ফরহাদ, শাহানাজ, বাবু, দক্ষিণ বনশ্রীতে আরও আছে এনামুল হক রিপন, কাঠ ফারুক, পেসপেস শামীম, নয়ন, জাপানী বাবু, বক্সার বাবু এর সিন্ডিকেটে আরও আছে ১৫ জন। খিলগাঁও পোড়াবাড়ির মোড়ের ব্যবসাটি নিয়ন্ত্রন করে রফিক, ইউসুফ, ইউসুফের বউ, গাফ্ফার, ফরমা জাফর এদের সিন্ডিকেটে আরও দশ জন।
রিফোজী ক্যাম্পে মাদকের বড় স্পটটি নিয়ন্ত্রন করে ঃ
সামছুন্নি, মিনু, রিপন, তাছলি, হযরত, তোফাজ্জেল, রুবেল, চোরা রিপন-মাছুম, টিটু, আনসার। ত্রিমোহনী শেখের জায়গা এলাকার স্পটটি নিয়ন্ত্রণ করে জিন্না, মনির, ডাকাত জলিল, মাইনুদ্দিন, জাহাঙ্গীর, নন্দীপাড়া ৬নং রোডে লাঙ্গল বাবু, রনি মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। গোড়ান ৮নং সিঙ্গেল, ওয়াহিদ, নবাবীর মোড়ে সুজন, রুবেল, সাগর, হাবিবুর রহমান টিপু, নবীনবাগ বস্তিতে ইয়াসিন, তারা, মর্জিনা, মিয়ার পোলা রিদু, মেরাদিয়া লালমিয়ার গলি রজুয়ার স্পট ও মাদক নিয়ন্ত্রন করে-হালিম, মাইনু, শুক্কুর, ফয়সাল এছাড়া নিয়মিত বখরা দিয়েছে ভ্রাম্যমান ও খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে নিবিঘেœ এসব মাদক স্পট সচল রাখতে পুলিশের সোর্স পরিচয় দানকারীদের রয়েছে চুক্তি। খিলগাঁও থানা পুলিশ ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট জোনের কর্মকর্তার নামে তারা সাপ্তাহিক ও মাসিক এমনকি কোন কোন স্পট থেকে দৈনিক স্পট  আদায় করছে মোটা টাকা এবং থানার বিশেষ টিমের নামে ৬৫টি স্পট থেকে তারা শ^-শরীরে অথবা বিকাশের মাধ্যমে সপ্তাহের টাকা আদায় করছে। স্পটপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের খিলগাঁও জোনের কর্মকর্তার নামে মাদকের স্পট থেকে সপ্তাহে উঠানো হয় তিন থেকে চার হাজার টাকা করে। আবার থানা এলাকার ৫টি ক্লাব থেকে ওসির নামে দৈনিক ৩০ হাজার করে টাকা। খিলগাঁও থানার সোর্স পরিচয় দানকারী মাদক স্পট থেকে নির্ধারিত টাকা উঠায় দানকারী সেলিম, সাগর, রনি, বিল্লাল, জাফর, মজিবর, আলমগীর, মুত্তোজা, মিজান, গাফ্ফার, কুট্টি ওসির নাম ভাঙ্গিয়ে বনশ্রীর নেতা তৌহিদ ও ভুঁইপোড় কথিত সাংবাদিক কামারুজ্জামান মিল্টন এলাকা থেকে টাকা তোলেন। যাবতীয় তদবিরের দায়িত্বে নিয়োজিত বলে জানা গেছে।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top