নিউজ টপ লাইন

ভেজাল বেকারীপন্যে সয়লাব সাভার, আশুলিয়া নীরব কর্তৃপক্ষ!

নোমান মাহমুদ: বর্তমান সাধারণ মানুষের খাদ্য তালিকায় যে সকল খাদ্য তালিকাভুক্ত তার একটি বিশেষ অংশজুড়ে রয়েছে বেকারীপন্য। আর এ সকল পন্যের ভোক্তা তালিকায় রয়েছে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের টিফিন থেকে শুরু করে বিভীন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষের চায়ের দোকান বা ফাস্টফুডের দোকানের নাস্তার তালিকার যে সকল খাদ্য ঘুরে ফিরে উঠে আসে তার অধিকাংশই এই সকল বেকারীপন্য। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় এই সকল প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নানা নিয়মনীতি অনুসরনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কড়া হুশিয়ারি থাকলেও তা তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ভেজাল রং সহ নি¤œমানের কাাঁচামাল ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন করে আসছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, জনসংখ্যার দিক থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের বসবাস ঢাকার পাশর্^বর্তী এই উপজেলায়, যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কি:মি: এ প্রায় ৪৯০০ জন। আর এই বিপুল জনসংখ্যাকে কেন্দ্র করে ব্যাবসায়িক উদ্দেশ্যে সাভার ও আশুলিয়ার আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেকারী খাদ্যপন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যার অধিকাংশেরই নেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য আবশ্যক সকল বৈধ অনুমোদন। তাছার পন্য উৎপাদনে ফুড গ্রেড রং ব্যবহার করার কথা থাকলেও তার পরবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে নি¤œমানের এসিড রং, ইস্ট, বেকিং পাওডার, ময়দা, ডালডা সহ বিভীন্ন কাঁচামাল। যা স্বাস্থের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠানের পন্যের বি.এস.টি.আই অনুমোদন থাকলেও, অনুমোদন প্রাপ্তির পর বি.এস.টি.আই কর্মকর্তাদের  নিয়মিত নজরদারী না থাকায় তারাও অস্বাস্থকর পরিবেশে নি¤œমানের খাদ্য উৎপাদন করে চলেছে। যা বি.এস.টি.আই নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এমনকি মানা হচ্ছে না ২০০৯ সালের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন যা ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। নিয়ম অনুসারে পন্যের গায়ে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে না পন্যের উৎপাদন, মেয়াদ উত্তির্নের তারিখ ও খুচরা মূল্য। আবার কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বি.এস.টি.আই এর অনুমোদন ছাড়াই পন্যের মোড়কে ব্যবহার করছে বি.এস.টি.আই এর সীল। আশুলিয়ার কলমা জিনজিরা রোডে অবস্থিত খন্দকার বেকারী সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে এ সকল অনিয়মের দৃশ্য ফুটে ওঠে। অভিযোগ পাওয়া গেছে খোদ বি.এস.টি.আই ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। একটি বিশ^স্ত সুত্র জানায়, এ সকল প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাসিক একটি মাসোয়াড়া দিয়ে ম্যানেজ করেই এই প্রতিষ্ঠানগুলো এমন গা-ছাড়া ভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে থাকলেও অভিযানের পর আবারও তারা সেই পূর্ববস্থায় ফিরে যায়। তাছাড়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই থেকে যায় ধরা ছোয়ার বাহিরে। অন্যদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা যায় আইনে শিশু শ্রম সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে এর রূপ ভীন্ন। আইনের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে অবাধে নিয়োগ করা হচ্ছে শিশু শ্রমিক। খাদ্য দ্রব্য উৎপাদনে স্টেইললেস স্টীল এর তৈরি সরঞ্জাম ব্যবহারের কথা থাকলেও এসবের কোন বালাই নেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এমনকি উৎপাদন শ্রমিকরা ব্যবহার করছেন না হ্যান্ড গ্লোবস্। ঘর্মাক্ত শরীরে খালি নোংরা হাতেই তৈরি হচ্ছে পন্যের মিশ্রন। পন্য উৎপাদনের পর থেকে মোড়কজাত হওয়া পর্যন্ত তা পড়ে থাকে খোলা জায়গায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বি.এস.টি.আই সহ অনান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকির অভাবেই প্রতিষ্ঠান গুলো এমন গা-ছাড়া ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অতিসত্তর এসকল খাদ্যপন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী। অন্যথায় নি¤œ মানের কাঁচামাল ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের কারনে হুমকির মুখে পড়বে জনস্বাস্থ্য।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Scroll To Top